বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যার রহস্য উন্মোচন

মাতৃভূমি সংবাদ 

জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী ফজলে রাব্বি বাবুকে (২১) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাওনা টাকার জন্য ইয়াবা সেবনে ডেকে নিয়ে মুগুর দিয়ে আঘাত ও পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাকারী মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।গ্রেপ্তার শাহেদ হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে। তিনি ১১ মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। পলাতক আসামি মাহফুজ একই এলাকার বাসিন্দা। নিহত রাব্বি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাব্বি নিখোঁজ হন। পরদিন তার বাবা পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের বেলাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন। ঘটনাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমীর তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদসহ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শাহেদ ও মাহফুজকে সন্দেহ করে। তবে তারা আত্মগোপনে ছিল। টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর দোহার এলাকা থেকে শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।এদিকে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রবাহবাঘ গ্রামের একটি টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে স্থানীয়দের সহযোগীতায় রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।শাহেদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাব্বি, মাহফুজ ও শাহেদ একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতেন। এর মধ্যে রাব্বির কাছ থেকে মাহফুজ টাকা পেতেন। কিন্তু তিনি টাকা দিচ্ছিলেন না। এজন্য মাহফুজ ও শাহেদ পরিকল্পনা করেন- রাব্বিকে মেরে তার মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে টাকা উসুল করবেন। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে মাহফুজ ও শাহেদ ওয়াদা করে। ঘটনার দিন বিকেলে তারা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা করেন- রাব্বিকে ইয়াবা সেবনের জন্য ডাকবেন। পরে নির্জন বাগানে নিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ গুম করে মোটরসাইকেল আত্মসাৎ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহেদ মোবাইলফোনে বাবুকে ডেকে চন্দ্রপ্রবাহবাঘ গ্রামে দিঘির পাড়ে আসতে বলেন। এশার আজানের আগে রাব্বি দিঘির পাড়ে গেলে শাহেদ ইয়াবা সেবনের কথা বলে তাকে নির্জন বাগানে নিয়ে যান। সেখানে গেলেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগ থেকে অবস্থান করা মাহফুজ মুগুর দিয়ে রাব্বির মাথায় আঘাত করেন। এতে রাব্বি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে চাদর দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে এলাপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে রাব্বি মারা যান। পরে শাহেদ ও মাহফুজ তার কাছে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি, ঘড়ি ও মোবাইল নিয়ে যান। পরে ঘড়িটি তারা দিঘীতে ফেলে দেন এবং মরদেহও দিঘীর পাড়ে পানিতে নিয়ে রাখেন।পুলিশ জানায়, শাহেদ ও মাহফুজ পরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত ওমর ফারুকের কাছে তা হস্তান্তর করে। তিনি যাওয়ার পর পেট্রোল ঢেলে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রাব্বির জুতা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও বোতল পুড়িয়ে দেন। চাদর ভেজা থাকায় তা না পুড়লে মুগুর ও চাদর পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় ফেলে দেয়। পরে মরদেহ নিয়ে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়ে মোবাইলফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, গ্রেপ্তার শাহেদের তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত মুগুর উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুক মোটরসাইকেলটি রাকিব নামে একজনের কাছে বিক্রি করেছে। তাদের দুইজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মাহফুজকে গেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD